RCB: জিততে ভুলে গেছে পাঞ্জাব, প্লে-অফ কনফার্ম বিরাটদের
বেঙ্গলপিডিয়া অনলাইন: পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতে প্লে-অফ নিশ্চিত করল আরসিবি (RCB)।
টানা হার পাঞ্জাবের (RCB)
ভালবাসার কাছে ঘৃণা বারবার পরাস্ত হয়েছে। পৃথিবীর আদি কাল থেকেই এটাই চিরন্তন সত্য। বারবার এই ঘটনার উল্লেখ পেয়েছি বাস্তব থেকে কল্পনার জগতে। তবে এই লেখার শুরুতে সেই কল্পনাময় মায়াবী এক গল্প এবং তাঁর চরিত্রের আশ্রয় নেবো। হ্যারি পটারের নাম জানে না এমন মানুষ বোধহয় হাতে গোনা। সাহিত্যের জনপ্রিয়তা সিনেমার হাত ধরে পৌঁছে গেছে ঘরে ঘরে (RCB)।
কিন্তু গল্পের শুরুতে হ্যারি পটারের জীবন ছিল অগোছালো। বাকিদের মত সহজ সরল নয়। তাঁর বাবা-মা মৃত, অন্যের বাড়িতে প্রবল অযত্নে অসম্মানে বড় হতে থাকা এক শিশু। কিন্তু সে ভালবাসা পায় উইসলিদের পরিবারে আবার পায় বন্ধুদের সাহচর্য। আর সর্বোপরি ডাম্বেলডোরের স্নেহমিশ্রিত সুরক্ষা। যা এই একাকী শিশু হৃদয় ভরিয়ে দিয়েছে ভালবাসায়। অন্যদিকে টম রিডেল, যার কথা শুনলে শুরুতে রাগ সৃষ্টি হলেও পরে এক অদ্ভুত বিষাদ কাজ করে। সেই টম রিডেলের মা ‘উইচ’ হওয়া সত্ত্বেও কোনওদিন তাঁর স্বামীর ওপর ম্যাজিক করেননি। বিশ্বাস রেখেছেন ভালবাসায়।

মৃত হ্যারির মা লিলি পটারের ভালবাসা হ্যারিকে সুরক্ষা দিয়ে গেছে হ্যারিকে। অন্যদিকে যে কিনা আরও শক্তিশালী সেই লর্ড ভলডেমর্ট প্রায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে নিজেরই অ্যাভাডা কেডাভ্রা মন্ত্রে। হ্যারি সকলের ভালবাসা পেয়ে ভালবাসতে শিখছে আর ভালবাসাহীন ছিল বলেই লর্ড ভলডেমর্টের মধ্যে ঘৃণার চাষ আর সেই ঘৃণাই তাঁর হারের প্রধান কারণ (RCB)।
আরও পড়ুন : প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PMAY) ২০২৬ – ‘সবার জন্য ঘর’
তবে হ্যারি পটার সিরিজে সব থেকে শক্তিশালী ভালবাসার প্রমাণ রেখে গেছেন প্রফেসর সেভেরাস স্নেপ। লিলি পটারকে ভালবেসেছিলেন বলে সবসময় হ্যারিকে তিনি রক্ষা করে গেছেন। বাহ্যিক দৃষ্টিতে স্নেপ হ্যারিকে পছন্দ করেন না বলে সবার মনে হলেও, তিনিই সারা জীবন লর্ড ভলডেমর্টকে বোকা বানিয়েছেন এবং হ্যারিকে আগলেছেন। তবে থেকেছেন আড়ালে।

ভালবাসার এই সুদীর্ঘ এই কথা লেখার একটাই উদ্দেশ্য যে ভালবাসার থেকে বড় ম্যাজিক আর কিছু নেই। এবার সেই একই কথা প্রযোজ্য ক্রিকেটেও। বিরাট কোহলিকে যাঁরা সমালোচনা করেছেন বা ঘৃণা করেছেন তাঁরা হয় পোস্তেছেন আর নয়ত আজ তাঁর সবথেকে বড় ভক্ত। কোহলি বারবার নিজেকে প্রমাণ করেছেন ক্রিকেটকে ভালবেসে তাঁর ভক্তদের ভালবেসে (RCB)।

অন্যদিকে একসময় যে পাঞ্জাবকে মনে হচ্ছিল অপ্রতিরোধ্য সেই পাঞ্জাব যেন এখন জিততেই ভুলে গেছে। যে দল প্রথম সাত ম্যাচে ৬ ম্যাচ যেতে এবং একটি ড্র হয় বৃষ্টির কারণে সেই পাঞ্জাব হেরে ফেলল প্রায় এক ডজন ম্যাচ (RCB)। প্লে-অফের অঙ্ক এখন কঠিন থেকে কঠিনতর। অন্যদিকে রবিবার ম্যাচ জিতে প্লে-অফ ফাইনাল করে নিল আরসিবি।
ম্যাচ শেষে শ্রেয়স আইয়ার বলেন, ‘ম্যাচের ফলাফল যা-ই হোক, আমি সব সময় ইতিবাচক থাকি। আমি মানুষটাই এ রকম। মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ি না।” টানা আধডজন হারের পরেও তাঁর ইতিবাচক মনোভাব বদলাবে না বলে জানিয়েছেন পাঞ্জাব অধিনায়ক শ্রেয়স। তিনি বলেন, ‘আমি অতীত নিয়ে খুব একটা ভাবি না। যেটা হয়ে গিয়েছে, হয়ে গিয়েছে। কাল আবার সূর্যোদয় দেখতে যাবে। অন্ধকার সুড়ঙ্গের শেষে আলোর দেখা পাওয়া যাবেই (RCB)।’
আরও পড়ুন: https://bengalpedia.online/rcb-beat-pbks-in-ipl-2026/
বেঙ্গালুরুর ২২৩ রান তাড়া করতে নেমে যেভাবে উইকেট হারাতে থাকে পাঞ্জাব সেখানে মনে হয় আরও বেশি ব্যবধানে হারবে পাঞ্জাব। তবে অবশেষে ২৩ রানে হারে। ম্যাচ শেষে শ্রেয়স বলেন, ‘২২৩ রান তাড়া করা খুব কঠিন ছিল না। তবে তার জন্য শুরুটা ভাল হতে হত। পাওয়ার প্লে-তেই আমার হেরে গেলাম। আমাদের তিন উইকেট পড়ে গেল। এর আগে আমাদের দলের বেশির ভাগ রান প্রিয়াংশ ও প্রভসিমরন করেছে। ওরা ভাল শুরু দিত। তার পর আমি ধরতাম। কিন্তু এই ম্যাচে সেটা হল না (RCB)।’
শশাঙ্ক সিংহের লড়াইতে ম্যাচে ফেরে পাঞ্জাব কিন্তু তাতে লাভ হয়নি তবে তিনি প্রশংসা কুড়িয়ে নিয়েছেন দলের অধিনায়কের কাছ থেকে। শ্রেয়স বলেন, ‘খুব হতাশ লাগছে। শশাঙ্ক ও স্টোইনিস যে খেলাটা খেলল, সে রকম যদি আরও এক জন খেলতে পারত, তা হলে হয়তো ছবিটা অন্য রকম হত। শুরুটা আরও একটু ভাল করতে হত। তা হলে হয়তো জিততেই পারতাম (RCB)।

অন্যদিকে এই ম্যাচেও অর্ধশতরান করে বিরাট কোহলি। চলতি আইপিএল-এও বিরাট যে ফর্মের ধারাবাহিকতা দেখছেন সেখান থেকে বোঝাই যাচ্ছে যে তিনি এখনও সেই আগের মত ক্ষিপ্র। তাঁর রানের খিদে একই রকম রয়েছে সঙ্গে জেতার তাগিদ।
যতক্ষণ তিনি মাঠের মধ্যে থাকেন ম্যাচ উপভোগ করেন। এটি তাঁর চলতি আইপিএল-এ চার নম্বর অর্ধশতরান। নাইটদের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করে একাই সেই ম্যাচ জিতিছিলেন বেঙ্গালুরুকে। এখন তাঁর পাখির চোখ ২০২৭ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। তাঁর বিরুদ্ধে যতবার সমালোচনা হয়েছে তিনি দুরন্ত ইনিংস খেলে জবাব দিয়েছেন। ভালবাসার জোরেই গড়ে তুলেছেন নিজের সাম্রাজ্য। যে সাম্রাজ্যে বিরাট রাজা অপ্রতিরোধ্য কিংবদন্তি (RCB)।

One Comment