Croatia

Croatia: ক্রোয়েশিয়ার জার্সিতে পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলতে প্রস্তুত লুকা মদরিচ

বেঙ্গলপিডিয়া অনলাইন: বিশ্বকাপের জন্য লুকা মদরিচকে অধিনায়ক ঘোষণা ক্রোয়েশিয়ার (Croatia)।

বিশ্বকাপের স্কোয়াডে লুকা মদরিচ (Croatia)

এই দেশটির কয়েকটি অংশের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস রয়েছে। অস্তিত্বের সংকট থেকেই জন্ম হয়েছিল এই দেশের। যুগোস্লাভিয়া যখন সম্পর্কের এই টানাপোড়েনে অস্তিত্বের সংকটে পড়লো, তখনই জন্ম নিলো ক্রোয়েশিয়া। সেখানে তিনটি ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর টানাপড়েনে পড়ে জন্ম হয় এই রাষ্ট্রের। যেখানে ইতিহাস পরিণত হল স্নায়ুযুদ্ধে। ১৯৯১ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা (Croatia)।

স্বাধীনতার পরে ফুটবল মিশে গেছিল এই দেশের সংগ্রামের সঙ্গে। যে রক্তে সংগ্রাম সেই রক্তেই ফুটবল। এরপর ক্রোয়েশিয়া যখন বিশ্বকাপ ফাইনাল নিশ্চিত করল তখন সেই দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাবেক তারকা ফুটবলার ডেভর সুকার বলেছেন,‘আমরা যুদ্ধ করতে জানি। তাই আমরা জিততেও জানি।’ সুতরাং বোঝাই যায় যুদ্ধ আর ইতিহাস তাঁদের রক্তের সঙ্গে কীভাবে মিশে রয়েছে।

ডেভর সুকারের এই কথা ছাড়া সংক্ষেপে এই দেশের বর্ণনা আর হয় না। জীবন যুদ্ধের সঙ্গে নিজেদের মর্যাদার যুদ্ধ, দুই তখন নিজের গল্প লিখছে। সেই অস্থির সময়েই জন্ম হয় বর্তমান ফুটবলের অন্যতম সেরা মিড ফিল্ডারের। ছাইয়ের থেকে যেন জন্ম এক ফিনিক্স পাখির। সেই দেশেই গোষ্ঠী লড়াই এবং সহিংসতার ভেতরে পড়ে তার প্রজন্মের হাজার হাজার শিশুর মত লুকা মদরিচের (Luka Modrić) জীবনও অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে (Croatia)।

ফলে বাকি দেশের আর পাঁচটা শিশুর মত ছিল না তাঁর ছোটবেলা। ক্রোয়েশিয়ার বন্দর শহর জাদারের রাস্তায় ফুটবল নিয়ে খেলার সময়, শিশু মদরিচ সতর্ক থাকতে হতো কথন সার্বিয়ান বিমান হামলা চালায়। বিমানের শব্দ পেলে দৌড়ে পালাতে হতো। কিন্তু সেখান থেকে তাঁর প্রতিভার কোনও বিচ্যুতি ঘটেনি বরং উত্তরোত্তর সেটা বৃদ্ধি পেয়েছে (Croatia)।

এক সময় ক্লাব ফুটবলেও দাপিয়ে বেড়িয়েছেন লুকা। রিয়ালে থাকালীন ছ’টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন মদরিচ। চারটি ঘরোয়া লিগের পাশাপাশি স্পেনের প্রায় সব ট্রফিই এক বার করে হাতে তুলেছেন এই তারকা ফুটবলার। ট্রফির নিরিখে রিয়ালের সফলতম ফুটবলার তিনিই (Croatia)।

যতদিন যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে উন্মাদনার পারদ বাড়ছে। কোনও এক টানটান গল্পের শেষ পরাজয় যেন এসে পৌঁছেছে। এবারই শুরু হবে চূড়ান্ত ক্লাইম্যাক্স। সেই ক্লাইম্যাক্সের আগে একে একে সব দেশ বিশ্বকাপের জন্য স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। এর আগে ফ্রান্স, জাপান তারপর ব্রাজিল এবং এবার ক্রোয়েশিয়া।

সোমবার তাদের এই ঘোষিত স্কোয়াডে রয়েছেন এসি মিলানের এই মিডফিল্ডার। ফুটবল ইতিহাস বদলে দেওয়ার অন্যতম কারিগর তিনি। তাঁর নেতৃত্বে ২০১৮ বিশ্বকাপে রানার্সআপ হয়েছিল ক্রোরেশিয়া। এরপর ২০২২ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন তাঁরা। এবার সেই একবার তাঁর উপরেই ভরসা রাখতে চলেছে দেশ (Croatia)।

এটি মদরিচের পঞ্চম বিশ্বকাপ। এ ছাড়াও দলে রাখা হয়েছে গত তিন বার বিশ্বকাপ খেলা ইভান পেরিসিচকেও, যার উপরও দলের ভরসা অনেক। গত মাসে মদরিচের গালের হাড় ভেঙে গিয়েছিল। মনে করা হচ্ছে, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নামার আগে মদ্রিচ সুস্থ হয়ে উঠবেন।

প্রসঙ্গত ৪০ বছর বয়সী মদরিচ গত মাসে গালে চোট পাওয়ার পর অস্ত্রোপচার করাতে বাধ্য হন। তবে দল ঘোষণার আগে তিনি অনুশীলনে ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাকতো দালিচ।

চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন ডিফেন্ডার ইওস্কো গাভার্দিওলও। জানুয়ারির পর থেকে মাঠের বাইরে থাকা এই সেন্টার ব্যাক গত সপ্তাহেই ম্যাঞ্চেস্টার এফসির হয়ে মাঠে ফেরেন।

সবশেষ দুই বিশ্বকাপে শেষ চারে ওঠা ক্রোয়েশিয়ার লক্ষ্য নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কোচ দালিচ বলেন গ্রুপ পর্ব পার তাঁদের প্রাথমিক টার্গেট তবে র বেশি স্পষ্ট করে কিছু বলতে চাননি তিনি। দালিচ বলেন, ‘আমাদের মান, তারুণ্য ও অভিজ্ঞতা আছে, যা আমাকে আশাবাদী করে তোলে।’

১৯৫০ সালে উরুগুয়ের পর, ক্রোয়েশিয়া ছিল ক্ষুদ্রতম দেশ যারা ২০১৮ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছেছিল। এর আগে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে এই দল তৃতীয় হয়েছিল, যা সমগ্র ফুটবলবিশ্বকে চমকে দিয়েছিল। ছোট দেশ হিসাবে এই সাফল্য অসামান্য। তবে এবার লক্ষ্য থাকবে বিশ্বকাপের খেতাব জয়।

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে ক্রোয়েশিয়া ঘরের মাঠে বেলজিয়াম ও স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ১৭ জুন ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করছে ক্রোয়েশিয়া (Croatia)।

আরও পড়ুন: https://bengalpedia.online/rcb-beat-pbks-in-ipl-2026/

ক্রোয়েশিয়ার বিশ্বকাপ স্কোয়াড

গোলকিপার: ডমিনিক লিভাকোভিচ, ডমিনিক কোতারস্কি, ইভোর পান্দুর।

ডিফেন্ডার: ইওস্কো গাভার্দিওল, দুয়ে চালেতা-সার, ইয়োসিপ শুতালো, ইয়োসিপ স্তানিশিচ, মারিন পংরাচিচ, মার্টিন এরলিচ, লুকা ভুশকোভিচ।

আরও পড়ুন : প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PMAY) ২০২৬ – ‘সবার জন্য ঘর’

মিডফিল্ডার: লুকা মদরিচ, মাতেও কোভাচেচ, মারিও পাশালিচ, নিকোলা ভ্লাশিচ, লুকা সুচিচ, মার্টিন বাতুরিনা, ক্রিস্টিয়ান ইয়াকিচ, পেতার সুচিচ, নিকোলা মোরো, টনি ফ্রুক।

ফরোয়ার্ড: ইভান পেরিসিচ, আন্দ্রে ক্রামারিচ, আনতে বুদিমির, মার্কো পাশালিচ, পেতার মুসা, ইগর মাতানোভিচ (Croatia)।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *