FIFA World Cup

FIFA World Cup: স্মৃতির সরণিতে ফিরে দেখা ফুটবল বিশ্বকাপ

বেঙ্গলপিডিয়া অনলাইন: একদিকে যেমন রয়েছে ব্রাজিলের কান্না তেমন রয়েছে প্রেস অফিসারের লাল কার্ড (FIFA World Cup)। বিশ্বকাপের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে আবার এক অদ্ভুত ট্রাজিডি।

বিশ্বকাপের অজানা কাহিনী (FIFA World Cup)

আজকের বিশ্বকাপের উন্মাদনা যখন আকাশচুম্বী তখন ইতিহাসের পাতা ঘেঁটে দেখা যাক এতোবছরের বিশ্বকাপের যাত্রাপথ। সালটা ১৯৩০, সেই বছর বিশ্বকাপ নামক এই গ্রেট নাইট শো-র সূচনা হয়। আজ হিসেব করলে প্রায় শতবর্ষ হতে চলল। এতদিনের এই বিশ্বকাপ অনেক ঘটনার সাক্ষী থেকেছে। একদিকে এমন রয়েছে পেলে-গারিঞ্চার সাম্বার ছন্দ আবার মারাদোনার ঐশ্বরিক ছোঁয়া, যা ফুটবলে হ্যান্ড অফ গড নামে পরিচিত। আবার বিশ্বকাপ চুরির মত ঘটনাও রয়েছে (FIFA World Cup)।

বিশ্বকাপ চুরি তও আবার দুই দুই বার। প্রথমবার বিশ্বকাপ খুঁজে রাতারাতি নায়ক হয়ে উঠেছিলেন একটি কুকুর। আবার এই ফুটবল ইতিহাসে রয়েছে জিনেদিন জিদানের উপাখ্যান বার মেসির বিশ্বজয়। রোনাল্ডোর ফুটবল পূরণ। সেই সব ধুলো ঝেড়ে সেই সব স্মৃতি ঘেঁটে দেখা যাক একবার (FIFA World Cup)।

ব্রাজিলের বিপর্যয়

প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপের আসর। এটি ছিল বিশ্বকাপের ২০ তম আসর। সেই বছর প্রথম রাউন্ডেই ছিটকে যায় ব্রাজিল। সেই যন্ত্রণা এখনও কাটেনি ব্রাজিলের। সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে হার যন্ত্রণা আরও বাড়িয়ে তুলেছিল (FIFA World Cup)।

ব্রাজিলের পর জার্মানির কাছে পরাস্ত হয় আর্জেন্টিনা। নিজেদের চতুর্থ শিরোপা জিতে নেয় জার্মানি। শুধু যে জার্মানির কাছে ম্যাচ হারে তা নয় বরং অন্য একটি রেকর্ডও হাতছাড়া হয় সাম্বা ব্রিগেডের। সেই বছর বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হন জার্মানির মিরোস্লাব ক্লোসা, সিংহাসনচ্যুত হন ব্রাজিলের রোনাল্ডো (FIFA World Cup)।

এই টুর্নামেন্টেই ফিফা দুটি নতুন প্রযুক্তি শুরু করে। একটি হল একধরনের বিশেষ স্প্রে, যা দিয়ে ফ্রি কিকের সময় ডিফেন্সে থাকা প্লেয়ারদের জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা মার্ক করে দেওয়া হয়। আর দ্বিতীয়টি হল হকস আই’ বা গোললাইন প্রযুক্তি। এটি মূলত একটি বিশেষ ব্যবস্থা যার মাধ্যমে বল বল গোললাইন পার হয়েছে কিনা সেটা নিশ্চিত করা যায়।

২০১৪ বিশ্বকাপের আয়োজনের পথে বড় ধরণের সাংগঠনিক সংকটের মুখে পড়তে হয়েছিল ব্রাজিলকে। টুর্নামেন্টে শুরুর সময়ও ৩৫টি কাঠামো অসমাপ্ত ছিল। কোথাও কাজ দেরিতে হয়েছে আবার কোথাও থমকে গেছে। আবার কোথাও শুরুও হয়নি। নাটালের এস্তাদিও দাস দুনাস স্টেডিয়ামও প্রথম ম্যাচ শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ফায়ার ব্রিগেডের নিরাপত্তা অনুমোদন পায় (FIFA World Cup)।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বিশ্বকাপের বিপুল ব্যয়। স্টেডিয়াম নির্মাণ ও সংস্কারে ব্রাজিল খরচ করে প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের কয়েকটি বিশ্বকাপের তুলনায় অনেক গুণ বেশি আর সেই নিয়েই চলেছিল বিতর্ক। এর সঙ্গে বিমানবন্দর, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে আরও প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার যোগ হয়। ফলে ২০১৪ বিশ্বকাপ তখন পর্যন্ত ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপে পরিণত হয়। বিপুল ব্যয় এবং দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত ছিল ব্রাজিল।

সুয়ারেজের কামড়

যত কাণ্ড কাঠমান্ডুতে না বলে বলে বরং বলা ভাল যত কাণ্ড ২০১৪ বিশ্বকাপে। গ্রপ পর্বে ইতালি এবং উরুগুয়ের ম্যাচ বিশেষভাবে মনে থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের। আর তার কারণের অন্য লুইস সুয়ারেজ। গোলশূন্য অবস্থায় থেকে ম্যাচের শেষ লগ্নে ইতালির ডিফেন্ডার জর্জো কিয়েল্লিনির সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে সুয়ারেজ তাঁকে কামড় দেন বলে অভিযোগ ওঠে আর সেই কাণ্ড শোরগোল ফেলে দেয় বিশ্ব ফুটবলে (FIFA World Cup)।

ম্যাচের ভিডিও বিশ্লেষণের পর ফিফা সুয়ারেজকে অবশ্য দোষী সাব্যস্ত করে এবং ৯ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বিষয়টি তুমুলভাবে আলোচনায় আসে। কারণ, এর আগেও ক্লাব ফুটবলে দুবার প্রতিপক্ষকে কামড়ানোর ঘটনায় শাস্তি পেয়েছিলেন এই তারকা ফুটবলার। একদিকে আলোচনা-সমালোচনা যেমন হয়েছিল তেমন এই নিয়ে কার্টুন এবং মিম ওঠে সময় নেয়নি বেশি।

প্রেস অফিসারের লাল কার্ড

ফুটবলে লাল হোক বা হলুদ কার্ড, মূলত দেখানো হয় প্লেয়ারদের আর কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে কোচদের। কিন্তু ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল প্রেস অফিসারকে আর সেটা ছিল ব্রাজিল বনাম চিলির ম্যাচ। শেষ ষোলোর সেই উত্তেজনায় ঘেরা ম্যাচ যখন প্রথমার্ধ শেষ করে সেই সময় ব্রাজিলের ফ্রেড এবং চিলির গ্যারি মেদেলের মধ্যে বেঁধে যায় তর্ক।

সেই মৌখিক ঝামেলা এক সময় পৌঁছে যায় ধাক্কাধাক্কিতে। দুই দলের প্লেয়াররাই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। এমন সময় সেখানে অবতীর্ণ হন ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের প্রেস অফিসার রদ্রিগো পাইভা। শান্তি ফেরানোর বদলে তিনি ঘুষি চালিয়ে বসেন। আর এই ঘটনা চোখ এড়ায়নি ম্যাচ কতৃপক্ষের। সেই ম্যাচেই এই কারণে লাল কার্ড দেখেন প্রেস অফিসার (FIFA World Cup)।

আরও পড়ুন: https://bengalpedia.online/rcb-beat-pbks-in-ipl-2026/

বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম ট্র্যাজিডি (FIFA World Cup)

ক্রিকেট হোক বা ফুটবল, সেখানে অনেক সময় দেখা যায় কোনও একটি দলের প্লেয়ার ভাল খেলেও তাঁর দল হেরে গেছে। সেই সময় তাঁকে ট্র্যাজিক নায়ক হিসেবেও অখ্যায়িত করা হয়। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন একটি ট্র্যাজিক ঘটনা রয়েছে যা ঘটেছে এক সমর্থকের সঙ্গে। কোনও প্লেয়ার বা দলের নয়।

১৯৫০ সালের বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয় ব্রাজিল এবং উরুগুয়ে। সেই ম্যাচের টিকিট জোগাড় করতে কালঘাম ছোটাতে হয়েছিল জোয়েদির বেলমন্তকে। কিন্তু ম্যাচের দিন তাঁর মায়ের অসুস্থতার কারণে মাঠে যেতে পারেননি তিনি। সেই না ব্যবহার করা টিকিট তিনি রেখে দিয়েছিলেন যত্ন করে। এক দুই বছর নয় বরং সেটা রেখেছিলেন ৬৪ বছর।

এরপর আবার সেই ২০১৪ সাল। তিনি ফিফাকে প্রস্তাব দেন ১৯৫০ সালের সেই ঐতিহাসিক টিকিট তিনি ফুটবল জাদুঘরে দিতে চান এবং বিনিময়ে যেন তাঁকে ২০১৪ সালের ফাইনালের দুটি টিকিট দেওয়া হয়। ফিফা সেই শর্তে রাজিও হয়ে যায়।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PMAY) ২০২৬ – ‘সবার জন্য ঘর’

একটি অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় দুটি টিকিট। অবশেষে সেই ৮৫ বছর বয়সী বেলমন্তের স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। এক ধাপ দূরে দাঁড়িয়ে তিনি কল্পনাও করতে পারেননি যে ভাগ্য তাঁর জন্য অন্য কিছু লিখে রেখেছে। টিকিট নিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করে বাড়ি ফেরার সময় সেই দুটি টিকিটই হারিয়ে ফেলেন। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন ট্র্যাজিক ঘটনা আর আছে বলে মনে হয় না (FIFA World Cup)।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *